মানুষকে খুশি করা কঠিন, কিন্তু আল্লাহকে খুশি করা সহজ
(ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এর বক্তব্যের আলোকে)
মানুষকে খুশি করা কঠিন। আর খুশি রাখা—খুশির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা—সহজ নয়, আরও কঠিন। ঠিক না?
কত কষ্ট করেছি স্ত্রীর জন্য। তাকে খুশি করতে মা ছাড়ছি, বাপ ছাড়ছি, ভাই ছাড়ছি। পনেরো বছর পর সেই স্ত্রী চলে যায়। ঘটে না এরকম?
তবে পুরুষেরা তো এই আকাম করে না? করে। যে স্ত্রী তার জন্য মা ছেড়েছে, বাপ ছেড়েছে, ঘর ছেড়েছে, বাড়ি ছেড়েছে, পনেরো বছর গোসল করেছে, ময়লা সাফ করেছে, ঘর দিয়েছে, রান্না করেছে—পনেরো বছর পরে স্বামী আরেকটা বিয়ে করে নিয়ে আসে। ঘটে না? ঘটে।
তাহলে এরকম বাবা-মা, ভাই-বোন, নেতা-নেত্রী, বন্ধু-বান্ধব—সবাইকে খুশি রাখা কঠিন। খুশি ধরে রাখা আরও অনেক কঠিন।
আর আল্লাহ তাআলাকে খুশি করা যত সহজ, খুশি রাখা আরও অনেক বেশি সহজ। কীভাবে? খুব ভালো করে বুঝুন।
আপনার মাকে খুশি রেখেছেন, বসকে খুশি রেখেছেন, নেতাকে খুশি রেখেছেন, স্ত্রীকে খুশি রেখেছেন, বন্ধু-বান্ধবীকে খুশি রেখেছেন—একটু অন্যায় হলেই রেগে যায়, তাই না?
এত আদরের স্বামী, ভাত একদিন খারাপ হয়ে গেলে গালি দেয়। আছে না?
এত আদরের স্ত্রী, একদিন শাড়িটা কম হয়েছে অথবা একটা অন্যায় কথা বলে ফেলেছে—রেগে যায়।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা?
আপনি যদি আল্লাহর কাছে তাওবা করেন—
“আমি গুনাহ করেছি, ক্ষমা করুন, আর কখনো গুনাহ করব না”—
এই সিদ্ধান্ত নিলেন। এটাই তাওবা।
এবার বলুন তো, আল্লাহ তাআলাকে খুশি করা কঠিন না কি সহজ?
অবশ্যই আল্লাহকে খুশি করা সহজ।
তাই আসুন, আমরা পৃথিবীর কারো খুশি দেখার আগে আমার আল্লাহর খুশির বিষয়কে সামনে রাখি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা চাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।
