প্রবাসী হবার ফায়দাগুলো পরিপূর্ণভাবে নিচ্ছেন তো?
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস:
**“মানুষ তার বন্ধুর ধর্মের অনুসারী হয়। সুতরাং প্রত্যেকেই যেন লক্ষ রাখে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।”**
(সুনান আবু দাউদ)
প্রবাসী হওয়া মানে শুধু বিদেশে থাকা নয়। এটি একটি বিশাল সুযোগ। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, নতুন চিন্তাভাবনা এবং নিজেকে বদলে ফেলার এক অনন্য সুযোগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আপনি কি এই সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছেন?
অনেকেই প্রবাসে গিয়েও আগের মতোই চিন্তা করেন, আগের মতোই সময় কাটান এবং আগের মতোই মানুষদের সাথে মিশতে থাকেন। ফলে প্রবাসের আসল ফায়দা হাতছাড়া হয়ে যায়।
### আপনি যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা করেন, তাই হয়ে ওঠেন
প্রতিটি সফল মানুষের জীবনে একটা কমন প্যাটার্ন দেখা যায়। তারা টাকা বানানো শুরু করার আগেই একটা কাজ করেছিলেন—**নিজেদের পরিবেশ বদলে ফেলেছিলেন**।
আপনি আসলে সেটাই হয়ে ওঠেন, যা নিয়ে আপনি সবচেয়ে বেশি সময় চিন্তা করেন। আর আপনার চিন্তা গড়ে ওঠে আপনার আশেপাশের মানুষদের থেকে।
আগে বলা হতো, আপনার আয় সেই পরিমাণ হবে, যা আপনার সবচেয়ে কাছের পাঁচজন মানুষ উপার্জন করে। কারণ আপনি তাদের সাথেই সবচেয়ে বেশি সময় কাটান। তাদের কথা, আচরণ, স্বপ্ন এবং অভ্যাস অজান্তেই আপনার মধ্যে ঢুকে যায়।
এখন সময় বদলেছে। মানুষ অনেক বেশি অনলাইন নির্ভর। তাই আজকের সেই “পাঁচজন” হলেন তারা, যাদের আপনি ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপে সবচেয়ে বেশি দেখেন ও শোনেন।
### আপনার ফিডই বলে দিচ্ছে আপনার ভবিষ্যৎ
এখনই মোবাইল হাতে নিন। ইউটিউব, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম খুলে দেখুন—অ্যালগরিদম আপনাকে কী দেখাচ্ছে?
যারা সত্যিই এগিয়ে যেতে চায়, তাদের ফিডে থাকে:
– সফল মানুষদের গল্প
– নিজেকে উন্নত করার কনটেন্ট
– ইতিবাচক ও প্রেরণাদায়ক আলোচনা
– ধনী ও সফল মানুষদের চিন্তাভাবনা
আর যাদের ফিডে শুধু অলস সময় কাটানোর কনটেন্ট, নেতিবাচক আলোচনা বা সাধারণ মানুষের অভ্যাস থাকে—তাদের চিন্তাও সেই স্তরেই আটকে থাকে।
প্রবাসে থেকেও যদি আপনি আগের মতোই মানুষ ও কনটেন্টের সাথে সময় কাটান, তাহলে প্রবাসের বিশেষ সুবিধা আপনি হারাচ্ছেন।
### সফল মানুষেরা কী করতেন?
অনেক ধনী মানুষ শুরুতে গরিব বা মধ্যবিত্ত ছিলেন। কিন্তু তারা বুঝেছিলেন—ধনী হতে হলে ধনীদের কাছাকাছি থাকতে হবে।
কেউ কেউ এমন রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন, যেখানে বড়লোকেরা আসে। কেউ সেই জায়গায় সময় কাটাতেন, যেখানে সফল মানুষদের কথাবার্তা শোনা যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই—সেই পরিবেশের ইতিবাচক শক্তি ও চিন্তা নিজের মধ্যে টেনে নেওয়া।
শুধু কাছাকাছি থাকলেই হয় না। সচেতনভাবে মনোযোগ দিতে হয়। নইলে পরিবেশ বদলালেও নিজের অবস্থা বদলায় না।
### প্রবাসী হিসেবে আপনার করণীয়
প্রবাসে থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—আপনি নতুন পরিবেশ বেছে নিতে পারেন।
– এমন মানুষদের সাথে সময় কাটান যাদের আয় ও চিন্তা আপনার চেয়ে এগিয়ে।
– সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকৃত সফল মানুষদের ফলো করুন।
– যেসব কনটেন্ট আপনাকে পিছিয়ে রাখে, সেগুলো বাদ দিন।
– পুরনো নেতিবাচক সার্কেল থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নিন।
– নতুন, ইতিবাচক ও উন্নত চিন্তার মানুষদের সাথে সম্পর্ক গড়ুন।
মনে রাখবেন, আপনি যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তা করেন এবং যাদের সান্নিধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকেন—আপনি সেটাই হয়ে ওঠেন।
প্রবাসী হওয়ার ফায়দাগুলো তখনই পুরোপুরি কাজে লাগবে, যখন আপনি পরিবেশ ও সঙ্গী বদলানোর সাহস দেখাবেন।
আপনি কি এখনো পুরনো পরিবেশে আটকে আছেন, নাকি নতুন ও উন্নত পরিবেশ বেছে নিচ্ছেন?
সিদ্ধান্তটা আপনারই।
মোঃ তৌহিদুর রহমান ।
মেন্টর ও মোটিভেটর | দেশ প্রবাস দেশ . কম । প্রবাসীদের পাশে, জীবন বদলানোর Catalyst
